জলদূষণের একটি ফলশ্রুতি ও প্রতিকার

এই 'বিজ্ঞান-লেখ' এ আলোচ্য প্রশ্নঃ, জলদূষণের কি, জলদূষণের একটি ফলশ্রুতি,  জলদূষণের প্রভাব, জলদূষণের কারণ। 

{tocify} $title={Table of Contents}

জলদূষণ কাকে বলে ?


কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক কারণে সমুদ্র, নদী, হ্রদ, পুকুর ইত্যাদির জলের স্বাভাবিক উপাদানের পরিবর্তন ঘটিয়ে) কোনো অবাঞ্ছিত পদার্থের (রাসায়নিক পদার্থ) প্রবেশ ঘটলে তা জীবকূলের পক্ষে ক্ষতিকর হয়ে যায় এবং মানুষ তথ্য অন্যান্য জীবের স্বাস্থ্যহানি ঘটে বা জীবনযাত্রা প্রণালীতে ব্যাঘাত ঘটে- এই ঘটনাকে জলদূষণ বলে। 


অর্থাৎ জলের বৈশিষ্ট্য এবং গুণগত মানের কুফলদায়ী পরিবর্তনই হল জলদূষণ।


জলদূষণের একটি ফলশ্রুতি :


জলদূষণের একটি ফলস্রুতি হল অতিপৌষ্টিকতা বা ইউট্রোফিকেশন (eutrofication)।


অতিপৌষ্টিকতা বা ইউট্রোফিকেশন (eutrofication) কাকে বলে? 


উঃ জলদূষণের একটি ফলশ্রুতির মধ্যে অন্যতম 

অতিপৌষ্টিকতা বা ইউট্রোফিকেশন।


কৃষিকার্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন সারের (নাইট্রেট, সালফেট, ফসফেট) একটি অব্যবহার্য অংশ জলবাহিত হয়ে বিভিন্ন জলাশয়ে, হ্রদে, পুকুরে সঞ্চিত হলে ওই সকল স্থানের বিভিন্ন প্রকার জলজ উদ্ভিদ তাদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি লাভের মাধ্যমে দ্রুত বংশবৃহদ্ধি ঘটায় এবং অচিরেই জলপূর্ণ স্থানগুলি বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ, শ্যাওলা এবং আগাছা দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে যায়।


জলে মিশ্রিত সার (পুষ্টিকারক পদার্থ) গ্রহণের মাধ্যমে জলজ উদ্ভিদের দ্রুত বংশবৃদ্ধির ঘটনাকে অতিপৌষ্টিকতা বা ইউট্রোফিকেশন বলে।


জলদূষণের একটি ফলশ্রুতি

জলদূষণের প্রভাব :

জলে উপস্থিত দূষক

ক্ষতিকারক জলদূষণের প্রভাব

ক্যাডমিয়াম (Ca)

ইতাই-ইতাই রোগ

পারদ (Hg)

মিনামাতা রোগ

লেড (Pb)

ক্ষুধামান্দ্য, বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তাল্পতা, অনিদ্রা, মাথাধরা

ম্যাঙ্গানিজ (Mn)

স্নায়ুরোগ

কোবাল্ট (Co)

ডায়ারিয়া,রক্তচাপের হ্রাস, হাড়ের বিকৃতি

আর্সেনিক (As)

ব্লাকফুড ডিজিজঃ গলা, ঘাড়, বুক ও হুপিঠের চামড়ায় কালচে-ধূসর বর্ণ।


 মানবদেহের সর্বাধিক সহনসীমা হল প্রতি লিটার জলে 0.05 mg আর্সেনিক।


জৈব বিবর্ধন (biomagnification) কাকে বলে? এই জাতীয় দূষকের উদাহরণ দাও।


উঃ যেসব গুলি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বিয়োজিত হয় না (ডিডিটি, অ্যালড্রিন) তাদের বিষক্রিয়া বহুদিন অক্ষত থাকে।


গুলি জীবদেহের চর্বিতে আবদ্ধ হয়ে সঞ্চিত হয় এবং খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির খাদকের দেহে সঞ্জিত হয়। জীবের মেদকলায় খাদ্যশৃঙ্খলের দ্বারা দীর্ঘস্থায়ী জৈব ধূষকের ক্রমাগত সঞ্চিত হওয়ার ঘটনাকে জৈব বিবর্ধন বলে।


জৈব বিবর্ধন ঘটায় এমন কয়েকটি কীটনাশক হল ডিডিটি (DDT),পলিক্লোরিনেটেডবেঞ্জিন(PCB),অলড্রিন, হেপ্টাক্লোর ইত্যাদি। এছাড়া মিথাইলমার্কারি নামক মার্কারি ঘটিত যৌগ জৈব বিবর্ধন ঘটায়।



জলদূষণের কারণ গুলি লেখো ?


মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপে নিম্নলিখিতভাবে জল দূষণ ঘটে থাকে। 


(i) প্যাথোজেন (Pathogen): প্যাথোজেন হল এক প্রকার রোগ উৎপাদনকারী জীবাণু যেমন ব্যাকটেরিয়া, বিভিন্ন অণুজীব। এগুলি প্রাণীর মলমুত্রাদি এবং নর্দমার দ্বারা ভালে মিশে জল দূষণ ঘটায়। 


(ii) জৈব আবর্জনাঃ মানুষের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী যেমন—কাগজ, তরিতরকারির অবশেষ, খাদ্যদ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত মাছ, মাংস ইত্যাদির উচ্ছিষ্ট অংশ, খাদ্য প্রস্তুতকারী কারখানায় নিঃসৃত জৈব পদার্থ নিকটবর্তী জলাশয়ে মিশে জল দূষণ ঘটায়।


জলে বহু সংখ্যক ব্যকটেরিয়া এই জৈব পদার্থগুলিকে বিয়োজিত করে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন ব্যবহার করে নেয়। এই কারণে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীরা শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় না।


ফলে তাদের জীবন বিপন্ন হয়। অবায়ুজীবী কিছু ব্যাকটেরিয়া জৈব আবর্জনা বিয়োজিত করে ফলস্বরূপ দুর্গন্ধযুক্ত যে রাসায়নিক পদার্থ উৎপন্ন হয় সেগুলি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক।


(iii) রাসায়নিক দূষক : জল একটি উত্তম দ্রাবক হওয়ায় এটি বিভিন্ন আয়নীয় রাসায়নিক পদার্থকে দ্রবীভূত করে। এদের মধ্যে Gd, Ni, Hg এর মাতা ভারী ধাতুগুলিও বর্তমান। মানবদেহে এদের উপস্থিতির ফলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয় (cd—ইতাই-ইতাই, Hg – মিনামাতা ইত্যাদি)।


এছাড়া, সমুদ্রে ভাসমান তেল, কীটনাশক, ডিটারজেন্ট ইত্যাদি জলে মিশে জল দূষণ ঘটায়। অভিপৌষ্টিকতা (eutropfication) জল দূষণের আর একটি অন্যতম কারণ। জলজ বাস্তুতন্ত্রে অতিরিক্ত পরিমাণে ফসফেট ও নাইট্রেট যৌগ মিশে গেলে এটি ঘটে।


জলাশয়ে অতিপৌষ্টিকতার কারণে জলজ উদ্ভিদের অতিবৃদ্ধি ঘটে ফলে শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় O2 পাওয়া যায় না, ফলস্বরূপ মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জীবন বিপন্ন হয়।


জলদূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায় :


  1. প্রতিটি বাড়ীতে সেপটিক ট্যাংক ব্যবহার করতে হবে।
  2. পুকুর ও নদীতে স্নান করা ও কাপড় কাচা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  3. জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক সঠিকমাত্রায় প্রযোগ করতে হবে।
  4. কলকারখানার দুষিত জল নদীতে ফেলার আগে পরিশোধন করতে হবে। 
  5. সমুদ্রে যাতে তেল না ছড়ায় সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post